দীর্ঘদিন কংগ্রেসে দখলে থাকা উত্তর দিনাজপুর জেলার ২৭ আসন বিশিষ্ট রায়গঞ্জ পুরসভা এই প্রথমবার বোর্ড গঠন করল তৃনমূল কংগ্রেস। সোমবার প্রথমে রায়গঞ্জ করোনেশন উচ্চ বিদ্যালয়ে বোর্ড গঠন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এদিনের সরকারি অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকেই নব নির্বাচিত কাউন্সিলারেরা শপথ গ্রহণ করেন তাঁদের শপথ বাক্য পাঠ করান রায়গঞ্জের মহকুমাশাসক থেণ্ডুপ নামগিয়েল শেরপা। এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলার পর্যবেক্ষক তথা রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারি, রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী তথা গোয়াল পোখরের বিধায়ক মন্ত্রী গোলাম রব্বানী, জেলা তৃনমূল কংগ্রেস সভাপতি অমল আচার্য্য সহ অন্য সরকারি আধিকারিকরা। রায়গঞ্জ পুরসভায় প্রথম তৃনমূল কংগ্রেস বোর্ড গঠন করায় রায়গঞ্জ শহরের তৃনমূল কংগ্রেস কর্মী সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছাস উদ্দীপনা দেখা যায়। এই দিনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তৃনমূল কর্মী থেকে শুরু করে সাধারন মানুষেরা ভীর জমায়। আগে থেকে পৌর প্রধানের নাম না ঘোষনা করার কারণে প্রথম পর্যায়ের শপথ গ্রহনের পর দ্বিতীয় পর্যায়ে তৃনমূল কাউন্সিলেরা পৌরসভা যান।। এবং পৌরসভা ভবনে তৃণমূলের কাউন্সিলররা গিয়ে বোর্ড গঠন ও পৌরপ্রধান নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়।
রাজ্যে স্তরের লিখিত নির্দেশ থাকা স্বত্বেও এক প্রকার নব নির্বাচিত কাউন্সিলারেরা শপথ গ্রহণ করার পরে পৌর প্রধান নির্বাচন করতে পারলো না তৃনমূল কংগ্রেস। উল্লেখ্য তৃনমূল কংগ্রেসে জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশ মতো ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সন্দীপ বিশ্বাস রায়গঞ্জ পৌরসভার পৌরপ্রধান নাম পেশ করা হয়। কারন তিনি দির্ঘদিন জেলা কংগ্রেসের সাধারন সম্পাদক পদে ছিলেন। পৌরসভা নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার পর কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলের সাথে যুক্ত হন। প্রাক্তন পৌরপ্রধান মোহিত সেনগুপ্তের প্রধান সেনাপতি থেকে দল ও পৌর সভা চালানোর সবকিছু তার নখদর্পনে। কিন্তু এই হুইপ মানতে চায়নি অনেক কাউন্সিলার। উপস্থিত কাউন্সিলাদের পক্ষ থেকে দ্বিতীয় নাম প্রস্তাব করা হয়। দুজনের মধ্যে কে হবে সেই কারণে গোপন ভোটাভুটি শুরু হয় কিন্তু ভোট প্রক্রিয়া মাঝ পথে করে দিয়ে বৈঠক মলতুবি করা হয়। তাই বন্ধ হয়ে গেল এদিনের বোর্ড গঠন করার কাজ। জেলা তৃণমূল সভাপতি অমল আচার্য্য জানান কাউন্সিলারদের একমত না হবার কারণে স্থগীত রাখা হল এই কাজ। আগামী ১০ জুন কলকাতার তৃনমূল ভবনে সমস্ত কাউন্সিলারদের এই ব্যাপারে বৈঠক ডাকা হয়েছে বলে জানা যায়।এবারের পৌর নির্বাচনে ২৭ আসনের মধ্যে তৃণমূলের ২৪ টি, বিজেপি ১ টি এবং কংগ্রেস ২ টি ওয়ার্ডে জয়লাভ করে।